ঢাকার কাছের ১০টি নান্দনিক ক্যাম্প সাইট
ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের পদ্মহেম ধাম জায়গাটিতে লালন সাঁইয়ের পদধূলি না পড়লেও তার ভক্ত প্রথম আলো’র সাংবাদিক কবির হোসেন সাঁইয়ের স্মরণে গড়ে তুলেছেন এই আখড়াটি। ইছামতি নদীর তীরে অবস্থিত এই ধামটিতে ক্যাম্পিং করে একটি রাত কাটানো সারা জীবনের শ্রেষ্ঠ সঞ্চয় হতে পারে। বালুচর গ্রামের ভেতরে অবস্থিত এ জায়গাটিকে গ্রামবাসীরা বাউল বাড়ি বলে ডাকে।
এ জায়গাটি ঢাকার একদম প্রাণকেন্দ্র গুলশানে অবস্থিত। নতুন বাজারের ভাটারা থানা থেকে সিএনজিতে মাত্র ২০ মিনিটের পথ ১০০ ফুট রাস্তার শেষ প্রান্তের বেরাইদ। সেখানেই দেখা মিলবে ৩০ ফুট প্রশস্ত এই ক্যাম্পিং সাইট। সিএনজি ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ২৫ টাকা।
বিগত কয়েক বছর ধরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ঢাকার নিকটেই এই জায়গাটি ক্যাম্পিংয়ের জন্য বেশ উপযুক্ত। এর আশেপাশের পুরো শান্ত পরিবেশ ঘুরে দেখার জন্য দুর্দান্ত। কায়াকিংয়েরও ব্যবস্থা আছে।
এটি মূলত নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মেঘনা নদীর ঠিক মাঝখানে জেগে ওঠা ত্রিভুজ আকৃতির একটি চর। ক্যাম্পিংয়ের আসল রোমাঞ্চকর আমেজের ষোল আনাই পরিপূর্ণ হবে এই গ্রামটিতে।
ঢাকার কাছেই অনেক সুন্দর গ্রাম দেখতে হলে যেতে হবে নারায়ণগঞ্জের এই উপজেলায়। এর গ্রামগুলো প্রত্যেকটিই নয়নাভিরাম। বিশেষত বিশনন্দি ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামকে অনেকেই আদিখ্যেতা করে মিনি কক্সবাজার বলে ডাকে। এই গ্রামগুলোর যেকোনোটিতেই ক্যাম্পিং করে একটা পুরো দিন কাটিয়ে দেওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে কালাপাহাড়িয়া, খালিয়ারচর, কদিমচর, রাধানগর, খাগকান্দা গ্রামগুলো ক্যাম্পিংয়ের জন্য সেরা।
ঢাকার পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়ক ও এর আশপাশ ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের বেশ প্রিয় জায়গায় পরিণত হয়েছে। এখানকার হ্যালিপ্যাড চত্ত্বর ক্যাম্পিং ভ্রমণের জন্য সেরা। ঢাকার মতো হৈচৈয়ের শহরেও এখানে মিলবে ঘুটঘুটে অন্ধকার ও পিনপতন নীরবতা। বাংলাদেশের কোনো পাহাড়ি অঞ্চল অথবা কোনো নির্জন দ্বীপে ক্যাম্পিংয়ের জন্য এখানকার ক্যাম্পিং সাইটটি প্রাথমিক অভিজ্ঞতা হিসেবে কাজ করতে পারে।
কেরানীগঞ্জের কলাতিয়াতে নৌখোলা নদীর পাড়ে সরু রাস্তার পাশে অবস্থিত এই ক্যাফে। দারুণ লেক ভিউসহ এখানকার গ্রাম্য পরিবেশে ক্যাম্পিং। প্যাকেজ জন প্রতি ১,১৯৯ টাকা। পাশেই গাড়ি অথবা বাইক পার্কিংয়ের ব্যবস্থা আছে। তাই পরিবার-পরিজনদের নিয়ে ক্যাম্পিংয়ের জন্য উপযুক্ত জায়গা এই ক্যাফেটি। শুধু তাই নয়, ক্যাম্পিং ছাড়াও প্যাকেজের মধ্যে আছে লেকের পানিতে সুইমিং, সাইক্লিং, ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, বারবিকিউ ও স্ন্যাক্সের ব্যবস্থা।
গাজীপুরে অবস্থিত এই ক্যাম্প সাইটটি এক্সপেন্সিভ হলেও চমৎকার। এখানে ক্যাম্পিংয়ের পাশাপাশি ব্যবস্থা আছে সাইক্লিং, ক্লাইম্বিং, আর্চারিসহ দারুণ কিছু আউটডোর এক্টিভিটিসের। সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাস অব্দি দ্য বেস ক্যাম্প বাংলাদেশ ক্যাম্পিংয়ের সুযোগ দিয়ে থাকে। এক্টিভিটিসগুলোর ওপর নির্ভর করে স্কুল, পরিবার অথবা করপোরেট গ্রুপগুলোর ক্যাম্পিং প্যাকেজ ভিন্ন হয়ে থাকে। বিশ জনের একটি দলের প্রতি দুই সদস্যের এখানে তাঁবুতে থাকার জন্য ভাড়া পড়ে আড়াই হাজার টাকা।
গাজীপুরের অনেকগুলো রিসোর্টের মধ্যে বৃন্দাবন রিসোর্টটি আলাদা হওয়ার মূল কারণ হলো এর প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে সাজানো স্থাপনা। তাই এটি ঢাকার ভ্রমণপিপাসুদের পরিপাটি ক্যাম্পিংয়ের ক্ষেত্রে প্রথম পছন্দ।
পরিবার নিয়ে নৌকা ভ্রমণ ও ঘুড়ি ওড়ানো; সর্বপরি ক্যাম্পিংয়ের আদর্শ জায়গা নীলা বর্ষা রিভার কুইন। ভ্রমণপ্রিয়দের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা সাভারের এই রিসোর্টটিতে পৌঁছাতে নৌকা যোগে ছোট্ট নদী পার হতে হয়।
(ইষৎ সংক্ষেপিত ও সম্পাদিত)
লেখা : কাউসার মো. সায়েম / ইউএনবি / ৩ জানুয়ারি ২০২২
ছবি : বাংলার যাযাবর, জাকির উসমান ও অন্যান্য
No comments